বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

শেষ স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন শ্রীমা

Published on: April 2, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

রাহুলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া, শেষ স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন শ্রীমা

রবিবার বিকেলে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুসংবাদ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাংলায়, যেন বিষাক্ত হাওয়ার মতো। শুটিং চলাকালীন কীভাবে ছবির নায়ক সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। একটি মৃত্যুকে ঘিরে অসংখ্য জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজছে সবাই স্টুডিওপাড়া থেকে সাধারণ মানুষ। টলিপাড়াজুড়ে ক্ষোভের সুর, শোনা যাচ্ছে ‘জাস্টিট ফর রাহুল’ স্লোগান।

‘সহজ কথা’-র সেট এখন যেন শূন্যতা আর স্মৃতির ভারে ভারাক্রান্ত। সেই জায়গার প্রতিটি কোণায় রয়ে যাবে রাহুলের উপস্থিতির ছাপ। তবে পর্দায় মৃত্যুর পরও দর্শকের সামনে আবার নতুনভাবে ফিরে আসবেন তিনি, তাঁর আসন্ন ছবি ‘আইসিইউ’-এর মাধ্যমে। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘গাঁটছড়া’ খ্যাত শ্রীমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যাঁর সঙ্গে কিছুদিন আগেও কাজ করেছেন, কথা বলেছেন তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি শ্রীমা। ঘটনার সময় কাজের সূত্রে শহরের বাইরে থাকায় মানসিক ধাক্কাটা আরও গভীর ছিল। প্রথমে খবরটি বিশ্বাসই করতে পারেননি, পরে সত্যিটা জানার পর ভেঙে পড়েন। রাহুলের মৃত্যুর চারদিন পর শুটিং সেটে তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তিনি। কথার মাঝেই বারবার আবেগে ভেঙে পড়ছিলেন অভিনেত্রী।

আবেগঘন কণ্ঠে শ্রীমা বলেন, “জীবন বড়ই অনিশ্চিত। সেদিনও আমার জন্মদিনে কথা হল। প্রমোটার বউদির জন্য শুভেচ্ছা জানাল। তারপরই এইরকম একটা খবর। রাহুলদার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চারিদিকে অনেক কথা শুনছি। আমি সত্যিটা জানতে চাই। এটা জানা আমাদের প্রত্যেকের অধিকার। আমি আর আরিয়ান সেইদিন বাইরে শুটিং করছিলাম। যখন খবরটা শুনলাম প্রথমে ভুয়ো খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।

কিন্তু, যখন জানলাম এটা সত্যি তখন চারপাশের সবকিছুই যেন মিথ্যা মনে হচ্ছিল। তবে যত বাধাই আসুক না কেন রাহুলদার মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে যে বিচারের দাবি তোলা হয়েছে আমিও দলেরই একজন।”

শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘাটতি থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন শ্রীমা। তাঁর কথায়, “অনেক সময় বাজেট সংক্রান্ত কারনে বা সময়ের অভাবে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কিছুটা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করে নেয়। সেটা অবশ্য তাঁদের কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই করে। কিন্তু, রাহুলদার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নেপথ্যে নিরাপত্তার খামতি ছিল না সেটা অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত।”

ছোটবেলা থেকেই রাহুলের ভক্ত ছিলেন শ্রীমা। তবে একসঙ্গে কাজ করার পর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সিনেমা কবে মুক্তি পাবে জানি না। আমাদের ডাবিংয়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আচমকা এইরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে সেটা তো কেউ বোঝেনি। রাহুলদা ভীষণ মজার মানুষ। সবসময় সকলের সঙ্গে হাসি মজা করে কাজ করে।

ওঁর থেকে অনেক কিছু শিক্ষমীয় বিষয় আছে। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীবন দর্শন নিয়ে নানান আলোচনা হত। মানুষটার সঙ্গে যত কথা বলতাম ততই যেন নতুন কিছু শেখা যেত। লাঞ্চ ব্রেক হোক বা প্যাকআপের শেষে আমরা উনো খেলতাম। প্রত্যেকটি বিষয় রাহুলদা ছিল একশো শতাংশ সৎ। ছোট থেকে রাহুলদার ভক্ত ছিলাম, কিন্তু, কাজ করতে গিয়ে বুঝলাম কতটা প্রতিভাবান ছিল। একজন অভিনেতা হিসেবে রাহুলদা একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। আমাদের হৃদয়ে চিরদিন থেকে যাবে।”

Join Telegram

Join Now