সিইও দফতরে হিংসা! কমিশনারকে সরাসরি নিশানা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তোপ শুভেন্দুর
নির্বাচনী উত্তেজনার আবহে কলকাতার সিইও দফতরের সামনে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার Ajay Nanda-এর ভূমিকা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, কমিশনার নিজের সিদ্ধান্তে নয়, অন্য এক পুলিশ আধিকারিকের নির্দেশে কাজ করছেন, যিনি মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর ‘গোলাম’।

মঙ্গলবার সিইও দফতরের সামনে তৃণমূলপন্থী বিএলওদের বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের বেগ পেতে হয়। এই ঘটনার পরেই শুভেন্দু কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,
“কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পেটাতে হবে। গ্যাস ফাটাতে হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর করতে হবে। ভাল করে মারলে সোজা হবে। লাঠি আছে তো হাতে! বন্দুক ব্যবহারের দরকার নেই।”

তিনি আরও বলেন,
“কেন্দ্রীয় বাহিনী কাশ্মীর সোজা করেছে। এখানে সোজা করতে দিতে হবে তো! কমিশন যে এখানকার সিপি দিয়েছে, সেই সিপি ঠিক নেই। এখনও বুঝতে পারছেন না কী হচ্ছে!”
শুধু তাই নয়, কমিশনারকে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দুর দাবি,
“রূপেশ কুমার নামে এক জন অফিসারের কথায় চলছেন কমিশনার। তিনি মমতার জ্যাক (গোলাম)।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal জানিয়েছেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে। পাশাপাশি তিনি কমিশনারকে সতর্ক করে বলেন,
“এই জায়গায় ১৬৩ ধারা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তাই এই জায়গায় কোনও গন্ডগোল হলে, তাঁর দায়িত্ব পরিস্থিতি সামলানো। তাই পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। তারা যদি না পারে কমিশন পদক্ষেপ করবে।”
উল্লেখ্য, আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি জারি হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড় রদবদল করে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে অজয় নন্দকে বসানো হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও বদল আনা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এই বদলি নিয়ে আদালতে গিয়েছিল তৃণমূল, তবে কলকাতা হাই কোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দেয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমায়েত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা থাকে প্রশাসনের হাতে। সেই ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও সিইও দফতরের সামনে সংঘর্ষ হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।










