ভবানীপুরে ‘দিদি’র নয়া কৌশল! ঘরে ঘরে পৌঁছে চমক দিলেন মমতা

রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রচারের ঝাঁপ দিলেন তিনি। তবে প্রচারের ধরনে ছিল স্পষ্ট বদল। প্রচলিত ধারা ভেঙে সম্পূর্ণ আলাদা ভঙ্গিতে তাঁকে দেখা গেল। ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেনের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে যান তিনি। ভবানীপুরের বিভিন্ন আবাসনে ঢুকে ভোটের প্রচার করতে দেখা যায় তাঁকে। লর্ড সিনহা রোডের বহুতল থেকে শুরু করে সেক্সপিয়র সরণির একাধিক আবাসনে গিয়ে প্রচার চালান তিনি। কার্যত মানুষের দুয়ারে হাজির হলেন ‘দিদি’।

আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রতিদিনই একাধিক জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের হয়ে প্রচার করেন তিনি। এরপর দক্ষিণ কলকাতায় পৌঁছে সোজা চলে যান সেক্সপিয়র সরণিতে। সেখানকার থানার উল্টোদিকে একটি ছোট সভায় অংশ নেন। এই সভার বিশেষত্ব ছিল এর সরলতা কোনও বড় মঞ্চ নয়, বরং ছোট্ট একটি জায়গাকে স্টেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি।
এরপর গঙ্গা-যমুনা নামের একটি আবাসনে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তৃণমূল নেত্রী। সকলকে একসঙ্গে থাকার বার্তা দিয়ে তাঁদের কাছে ভোটের আবেদন জানান তিনি। সাধারণত বড় সভা বা পদযাত্রায় অভ্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে ঘনিষ্ঠ জনসংযোগ করতে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজের কেন্দ্রে কি নতুন কৌশল নিয়েছেন তিনি? মানুষের আরও কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যেই কি এই উদ্যোগ এমন প্রশ্নও উঠছে।
গত ১৫ বছরে ভবানীপুর ও কলকাতার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও এদিন তিনি কথা বলেন। পাশাপাশি বিধায়ক হিসেবে নিজের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন বাসিন্দাদের সামনে। নাগরিক পরিষেবা নিয়ে মানুষের মতামত ও অভিযোগ শোনারও চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয়রাও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন তাঁর সঙ্গে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এলাকার পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনাও তাঁদের সামনে তুলে ধরেন নেত্রী।
উল্লেখ্য, গত রবিবার কলকাতার লেডিজ পার্কে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের কেন্দ্রে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের এই উদ্যোগকে মানুষের আস্থা অর্জনের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।












