নেপালের হড়পা বানের গ্রাসে ভারত: নিখোঁজ অন্তত ১৪ শুল্ক কর্মী, বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জারি হাই অ্যালার্ট
নেপালে তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া (Rasuwa) জেলায় প্রলয়ংকরী হড়পা বানের তাণ্ডবে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিব্বত থেকে নেমে আসা জল ও কাদার প্রবল তোড়ে নদী তীরবর্তী একাধিক এলাকা, পুলিশ পোস্ট ও সীমান্ত দপ্তর ধসে তলিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার জল গড়িয়েছে ভারতেও, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে।

প্রধান ঘটনাবলি ও পরিস্থিতি

-
রসুয়াগড়ি কাস্টমস ও নিখোঁজ কর্মী: ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী রসুয়াগড়ি শুল্ক কার্যালয় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার ৩৫ জন কর্মচারীর মধ্যে ১৪ জনের কোনো খোঁজ মিলছে না। উদ্ধারকারী দল তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
-
ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটক নিখোঁজ: কৈলাশ মানস সরোবরগামী পর্যটক ও যাত্রীসহ প্রায় ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক এই দুর্যোগের ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
-
‘নারায়ণী-গণ্ডক’ সংযোগ ও জলপ্রবাহ: তিব্বত ও নেপাল হয়ে প্রবাহিত নারায়ণী নদী ভারতে প্রবেশ করে গণ্ডক নামে পরিচিত। নেপালের দিক থেকে বিপুল পরিমাণ জল নদীপথে নেমে আসায় গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে নিম্নাঞ্চলে নদীর জলস্তর লাফিয়ে বাড়ছে।

-
বিহার ও উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনিক তৎপরতা: পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী গণ্ডক নদী অববাহিকার জেলাগুলিতে SDRF ও NDRF-কে প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরসহ সীমান্ত জেলাগুলিতে নদীর বাড়তে থাকা জলস্তরের ওপর কড়া নজরদারি ও হাই অ্যালার্ট জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুই রাজ্যের জেলা প্রশাসন।












