বড় সিদ্ধান্ত ফিফার! কোয়ার্টার ফাইনালের পর আর ‘ট্রিওন্ডা’ বলে খেলা হবে না বিশ্বকাপে, এল নতুন চমক

ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে একের পর এক চমক লেগেই রয়েছে [cite: কোয়ার্টার ফাইনালের পর আর ট্রিওন্ডা বলে খেলা হবে না বিশ্বকাপ, বড় সিদ্ধান্ত নিল FIFA]। গ্রুপ পর্বের ব্যস্ততা পেরিয়ে টুর্নামেন্ট এখন কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকরলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে [cite: কোয়ার্টার ফাইনালের পর আর ট্রিওন্ডা বলে খেলা হবে না বিশ্বকাপ, বড় সিদ্ধান্ত নিল FIFA]। শেষ ৩২ এবং শেষ ১৬-র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সেমিফাইনাল ও ফাইনালের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অফিসিয়াল ম্যাচ বলে বড়সড় বদল আনার ঘোষণা করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA) এবং ক্রীড়াসরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যাডিডাস।

কোয়ার্টার ফাইনালের পর আর দেখা যাবে না চেনা ‘ট্রিওন্ডা’ বলটি। তার পরিবর্তে শেষ চার ম্যাচের জন্য আনা হচ্ছে বিশেষ বল— ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ (Trionda Final)।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার টুর্নামেন্টের শেষ চারটি ম্যাচের (দুটি সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং মেগা ফাইনাল) জন্য সম্পূর্ণ আলাদা নকশার অফিসিয়াল বল ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি কেবল রঙের সামান্য পরিবর্তন নয়, বরং বলটির নকশার পরতে পরতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীকী যাত্রা।
কেমন দেখতে এই ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’?
- রাজকীয় রং: বলটির মূল আকর্ষণ হলো সোনালি ও কালো রঙের চোখধাঁধানো সমন্বয়।
- ট্রফির প্রতীক: কালো রঙের ওপর সোনালি নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীকী ছবি।
- ১৬টি আয়োজক শহরের নাম: নতুন এই বলে গ্রাফিক্স হিসেবে স্থান পেয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক ১৬টি শহরের নাম। এর মধ্যে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল ম্যাচের আয়োজক শহর— ডালাস, আটলান্টা, মায়ামি এবং নিউ জার্সিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোস্টন, মেক্সিকো সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের মতো বাকি শহরগুলির নামও রয়েছে এতে।
কী কী আধুনিক প্রযুক্তি থাকছে এই বলে?
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাজারে আসা আসল ‘ট্রিওন্ডা’ বলের উন্নত সংস্করণ হলেও, এর পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তিতে আনা হয়েছে কিছু বিশেষ আপগ্রেড:
- কানেক্টেড বল টেকনোলজি (Connected Ball Technology): এই বলের ভেতরে থাকা বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে রিয়েল-টাইমে বলের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি ও তথ্য (Data) রেকর্ড করা হবে।
- দ্রুত VAR সিদ্ধান্ত: বল থেকে পাওয়া নিখুঁত ডেটা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও অনেক দ্রুত ও নির্ভুল করবে। অন-ফিল্ড রেফারিরাও সরাসরি এই ডেটার সাহায্য নিতে পারবেন।
“বিশ্বকাপের শেষ চারটি ম্যাচে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পায়ে থাকবে এই বল। প্রতিটি পাস, শট, সেভ ও গোলের সঙ্গে বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের অবদানও মিশে থাকবে।” — জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (ফিফা সভাপতি)
ট্রিওন্ডা বলের অতিরিক্ত গতি নিয়ে আগে যে তুমুল চর্চা হয়েছিল, এই নতুন ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’-এও সেই গতি বজায় থাকে কি না এবং মাঠের পারফরম্যান্সে এটি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।









