একুশের সমাবেশ ধর্মতলাতেই করতে মরিয়া মমতা: কোন্দল ও দলবদলের আবহে লালবাজারে চিঠি তৃণমূলের

কলকাতা: দলের অন্দরে নজিরবিহীন ডামাডোল, একের পর এক বিধায়ক-সাংসদের দলবদল— সব মিলিয়ে এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী ২১শে জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশ ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই করতে অনড় দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। সমাবেশ আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে ইতিপূর্বেই কলকাতা পুলিশকে (লালবাজার) চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

💔 নজিরবিহীন ভাঙন, সংকটে দলের প্রতীক
গত দেড় দশকে জুলাই মাস আসতেই যেখানে তৃণমূল শিবিরে চরম ব্যস্ততা দেখা যেত, এবার সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। জোড়া-ফুল শিবিরে এখন ভাঙনের চওড়া ফাটল।
- দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি এখন ‘বিদ্রোহী’।
- ২৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন ইতিমধ্যেই এনসিপিআই (NCPI)-তে নাম লিখিয়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন।
- রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে— দলের আসল প্রতীক শেষ পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জির হাতে থাকবে তো?
📢 “পাঁচ জন লোক হলেও ধর্মতলাতেই হবে” – কড়া বার্তা মমতার
এই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজের তৈরি দলের প্রকৃত শক্তি মেপে নিতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জি। গত বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের উদ্যোগে একটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভা থেকেই সরাসরি ফোনে কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী।
ফোনে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে মমতা ব্যানার্জি বলেন:
“শহিদ স্মরণ কর্মসূচি বছর বছর ধর্মতলাতেই করে এসেছে তৃণমূল। এবারও পুলিশের অনুমতি পেলে সেখানেই সেই কর্মসূচি হবে। পাঁচ জন লোক হলেও ধর্মতলাতেই যাব।”
⚔️ বেইমানদের ক্ষমা নয়: বিজেপি ও দলত্যাগীদের নিশানা
টেলিফোনে বক্তব্য রাখার সময় দলত্যাগীদের তীব্র আক্রমণ করেন দলনেত্রী। কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন:
- দলের কর্মীদের ওপর বিজেপি লাগাতার অত্যাচার করছে, আর এর বিরুদ্ধে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই সংঘবদ্ধভাবে লড়াই করতে পারে।
- কর্মীরা যাঁদের লড়াই করে জেতালো, তাঁরা আজ নিজেদের সম্পত্তি বাঁচাতে সেই শত্রুপক্ষেরই হাত ধরছেন।
- দলত্যাগীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁরা যেতে চান যান। কিন্তু, সিপিএম থেকে আসা একজন নেতাকে সামনে রেখে দলের সঙ্গে যাঁরা বেইমানি করলেন, তাঁদের কোনও ক্ষমা নেই।”
আইনি ও রাজনৈতিক স্তরে হাজারো প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও, স্থান পরিবর্তনে একেবারেই নারাজ কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। এখন দেখার, লালবাজারের সবুজ সংকেত নিয়ে ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কী বার্তা দেন মমতা ব্যানার্জি।












