পরিচারিকা থেকে সোজা শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায়: শপথ নিয়েই কর্মসংস্থানের বার্তা দিলেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজি

কলকাতা ও আউশগ্রাম: পেশায় তিনি ছিলেন পরিচারিকা, আর নেশায় একনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী। ঘর-সংসার সামলে, অন্যের বাড়িতে কাজ করে মাসে মাত্র আড়াই হাজার টাকা উপার্জন করতেন। সেই কষ্টের দিন পেরিয়ে আজ তিনি রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি আউশগ্রামের বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাজি। সোমবার কলকাতার লোকভবনে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আউশগ্রাম আসন থেকে দাঁড়িয়ে হেরে গেলেও, ২০২৬ সালে দল তাঁর ওপর পুনরায় ভরসা রাখে। দলের সেই ভরসার মর্যাদা দিয়ে এবার জয়ী হন কলিতা। আর সোমবার তাঁর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর আউশগ্রামে পৌঁছাতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এলাকায় চলেছে লাড্ডু বিলি ও মিষ্টিমুখ।
“পড়াশোনা করে লেবার খাটতে হচ্ছে, এটা বদলাতে হবে”
মন্ত্রী হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান কলিতা মাজি। নিজে একজন মা হওয়ায়, সাধারণ পরিবারের সন্তানদের কষ্টটা তিনি খুব ভালো বোঝেন।
তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন:
“আমাদের বিধানসভা এলাকায় দেখেছি পড়াশোনা শিখেও যুবকদের টোটো চালাতে হচ্ছে, রাজমিস্ত্রির লেবার খাটতে হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যেন কাউকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, আমি সেই চেষ্টাই করব। পিছিয়ে পড়া ঘরের ছেলেমেয়েরা যাতে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।”
একই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও চাকরি হবে।
“বিজেপি মানুষকে সম্মান দিতে জানে”
কোনোদিন কি ভেবেছিলেন যে তিনি মন্ত্রী হবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আবেগঘন হয়ে কলিতা মাজি বলেন:
“এরকম কোনো স্বপ্ন আমার ছিল না। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি যে একজন সাধারণ কর্মীকেও এমন জায়গায় নিয়ে আসতে পারে, তা আজ প্রমাণিত। বিজেপি মানুষকে সম্মান দিতে জানে, সম্মান দিতে জানেন নরেন্দ্র মোদী।”
যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে—ক্ষমতা বা এই নতুন পদ কি তাঁকে বদলে দেবে? তিনি স্পষ্ট জানান:
“আমি মানুষের জন্যই আজ এই জায়গায় এসেছি। মানুষ আমায় দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। কী করে মানুষকে ভুলে যাই বলুন তো? পুরোনো লড়াইয়ের দিনগুলো আমি কোনোদিন ভুলব না।”
“ওরা আমায় কাজের মেয়ে নয়, নিজের মেয়ের চোখেই দেখতেন”
কলিতা মাজি এতদিন প্লাতিলাল পাত্র ও কৃষ্ণা পাত্রের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। কলিতার এই সাফল্যে চোখে জল পাত্র দম্পতির। তাঁরা জানান, তাঁদের একমাত্র মেয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে কলিতাই তাঁদের মেয়ের অভাব পূরণ করেছিল, দেখভাল করত।
কৃষ্ণা পাত্র বলেন, “খুব ভালো লাগছে। কলিতাকে মেয়ের মতোই দেখতাম। এবার ও রাস্তা, হাসপাতালসহ এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবে।”
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী কলিতা মাজি বলেন, “ওঁরা আমায় কোনোদিন কাজের মেয়ে ভাবেননি, সবসময় নিজের মেয়ের চোখে দেখেছেন। আমি প্লাতিলাল কাকাকে বাবাই বলে ডাকি।”
এক নজরে কলিতা মাজি:
- বাসস্থান: গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়।
- পরিবার: স্বামী এবং এক ছেলে (যিনি এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন)।
- রাজনৈতিক সফর: ২০২১-এ পরাজয়, ২০২৬-এ আউশগ্রাম থেকে জয় এবং বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী।












