‘ভারতে কোনও জ্বালানি সংকট নেই’: দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে যা জানাল কেন্দ্র
পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এমন এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে স্বস্তি দিয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ভারতে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


সোমবার পরিবহন, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরেন।
🛡️ সংকটের ঢাল: ৭৮ দিনের জ্বালানি মজুদ
বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা থাকলেও ভারতে জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি হবে না।
- বর্তমানে ভারতের কাছে ৭৮ দিনেরও বেশি জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে।
- এই বিশাল পরিমাণ কৌশলগত মজুদ যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক সংকট থেকে দেশকে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা দেবে।
- যদি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দ্রুত থেমে যায়, তবে মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
🌾 সার আমদানিতে বিকল্প পথ
ভারত তার প্রয়োজনীয় সারের ৩০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই প্রণালীতে তৈরি হওয়া সংকটের কারণে সার সরবরাহে যাতে কোনও বাধা না আসে, তার জন্য কেন্দ্র আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা এবং নতুন পথ উন্মুক্ত করে রেখেছে। ফলে দেশের কৃষিক্ষেত্রে এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
🚀 সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের ‘ত্রিমুখী কৌশল’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোদি সরকার মূলত তিনটি প্রধান কৌশলের ওপর ভরসা করছে:
- কৌশলগত মজুদ (Strategic Reserves): দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি ও জরুরি পণ্যের মজুদ বজায় রাখা।
- আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য (Diversification): একটি বা দুটি দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ও সার আমদানি করা।
- আন্তঃ-মন্ত্রক সমন্বয় (Inter-Ministry Coordination): নৌপরিবহন, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কূটনীতি বিষয়ক মন্ত্রকগুলির মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা।
📈 আমজনতার পকেটে টান: বাড়ছে দুধ ও রুটির দাম
আন্তর্জাতিক বাজারের চাপে দেশের তৈল সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিল। ভোটপর্ব মিটতেই দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
তবে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহণ খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রায় এর বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইতিমধ্যেই বাজারে দুধ ও রুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে শুরু করেছে, যা মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।












