“এটা অপরাধ, কেস করুন” শাহের মন্তব্যে আইনজীবীদের কড়া বার্তা মমতার
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘উলটো করে ঝুলিয়ে দেওয়া’ মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এবার সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী সভা থেকে হিংসা উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্য রেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “কেস করবেন। আমার কাছে ভিডিও আছে। এটা অপরাধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরকম কথা বলতে পারেন না। আমি যেমন বলতে পারি না, অন্যরাও বলতে পারেন না। আইন সবার জন্য এক।”


বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন সভা থেকে তৃণমূলের কর্মীদের ‘উলটো করে ঝুলিয়ে’ শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন অমিত শাহ এই অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারের একটা দায়িত্ব আছে। সেই চেয়ারে বসে কীভাবে ভরা সভা থেকে তিনি বলছেন, ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, পা উপরে আর মাথা নিচে!”
এই সভা থেকেই ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে ‘আমোদী-প্রমোদী বাবু’ বলে আক্রমণ করেন মমতা। নিজের নামে স্টেডিয়াম নির্মাণ নিয়েও মোদিকে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মের নামে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের রাজনীতি চলছে। তাঁর কথায়, “হিন্দু ধর্মের সর্বনাশ করছে বিজেপি। এরা চার নম্বরি। গান্ধীজিকে ৩টে বুলেট চালিয়েছিল। সেই ৩টে বুলেটের উত্তর চাই।”
মমতা আরও দাবি করেন, প্রতিশ্রুতি মতো কর্মসংস্থান বা আর্থিক সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র। তাঁর কথায়, “দিয়েছেন?” এবং “কালো টাকা ফেরত এসেছে?” এই প্রশ্ন তুলে তিনি কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নৌকাবিহার নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, “আমরা ঘাটগুলি করে দিয়েছি, নিশ্চয়ই দেখতে দেখতে গিয়েছেন? তোমরা কোভিডের সময় ডেডবডি ভাসিয়ে দিয়েছিলে। মালদহে আমরা সেই বডিগুলি উদ্ধার করেছি। আমার রিকোয়েস্ট, মোদিজি আপনি তো থাকেন দিল্লিতে? সেখানে যমুনাতে গিয়ে ডুব দিয়ে আসুন না। ওটা দূষণে ভর্তি হয়ে গিয়েছে।”
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গঙ্গা ভাঙন, ড্রেজিং ও বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগও করেন মমতা।
শেষে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হরিনাম সংকীর্তন বা আজানের শব্দ নয়, বরং বাংলায় এখন শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের আওয়াজ। এর পালটা হিসেবে মহিলাদের হিল পরে খটখট শব্দ তুলে প্রতিবাদের বার্তাও দেন তিনি।












