ভোটের দিন বেতনসহ ছুটি ঘোষণা রাজ্য সরকার-এর

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে West Bengal সরকার। রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে বেতনসহ ছুটি ঘোষণা করা হবে, যাতে প্রতিটি ভোটার কোনওরকম অসুবিধা ছাড়াই তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্যে একাধিক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। এই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকাগুলির আওতায় থাকা সমস্ত সরকারি দফতর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক সংস্থা এবং শিল্প ইউনিটের কর্মীদের ছুটি দিতে হবে। অর্থাৎ, কোনও কর্মী যাতে কাজের চাপে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ কার্যকর করা হবে Representation of the People Act, 1951-এর আওতায়। ফলে এটি কেবলমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, আইনি বাধ্যবাধকতাও বটে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা বা নিয়োগকর্তা যেন কর্মীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনওভাবেই বাধা না দেন। এমনকি যাঁরা অন্য এলাকায় কর্মরত হলেও নির্দিষ্ট বিধানসভা এলাকায় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত, তাঁদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়াও ভোটের দিনগুলিকে ড্রাই ডে হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই দিনগুলিতে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং কোনওরকম অশান্তি বা অনিয়ম এড়াতে সহায়ক হবে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের বিধিনিষেধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে Election Commission of India-এর নির্দেশিকা মেনেই। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ভোটারদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সব মিলিয়ে, এই নির্দেশিকা ভোটের আগে প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার অঙ্গীকারকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।











