তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডির, ভোটের আগে জঙ্গলমহলে বদলাচ্ছে সমীকরণ?

ডাইনি প্রথার মতো কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই চালিয়ে আসছেন জঙ্গলমহলের সাঁওতাল লেখক-সাহিত্যিক কলেন্দ্রনাথ মান্ডি। সারদা প্রসাদ কিস্কু ও মহাশ্বেতা দেবীর দেখানো পথ অনুসরণ করে তিনি বছরের পর বছর গ্রামে গ্রামে ডাইনি বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেছেন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বান্দোয়ান ব্লকের একটি আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে জেলা পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মান লাভ করেন কলেন্দ্রনাথ। তবে এবার আচমকাই রাজনৈতিক মোড় বদল তাঁর।

বৃহস্পতিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কলেন্দ্রনাথ মান্ডি। এদিন বিধাননগরে রাজ্য বিজেপির দফতরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি।
সাঁওতালি সাহিত্যে পরিচিত মুখ কলেন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চা শুরু ১৯৮১ সালে। তাঁর লেখা মোট ১০টি গ্রন্থের মধ্যে ‘আরসি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে ডাইনি প্রথার মতো সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি দল গঠন করে বিভিন্ন গ্রামে ডাইনি বিরোধী প্রচার চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সাঁওতালি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডি। বৃহস্পতিবার তাঁর বিজেপিতে যোগদানের পর সাংসদ জ্যোতির্ময় বলেন,’ তৃণমূলের জমানায় আদিবাসী সম্প্রদায় অনুন্নয়ন ও বঞ্চনার শিকার। দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অবমাননা করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। বিধানসভা ভোটে এর প্রভাব পড়বেই ।’
এরই মধ্যে বুধবার ১৯টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৭৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে শুধুমাত্র জয়পুর আসনটি এখনও প্রার্থী তালিকায় ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কলেন্দ্রনাথ মান্ডির বিজেপিতে যোগদান জঙ্গলমহলের ভোট সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।











