‘এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না’— ‘গদ্দার’ ইস্যুতে কড়া বার্তা অভিষেকের, নন্দীগ্রামে পবিত্রকে জেতানোর ডাক

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। সেখানে এ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছেন ভূমিপুত্র পবিত্র কর এবং শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নন্দীগ্রামে পবিত্র করের সমর্থনে আয়োজিত কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

একুশের বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে এখনও আদালতে মামলা বিচারাধীন। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনে আমরা ভালো ফল করিনি। তবে এখানে আমাদের আরও ভালো কাজ করতে হবে। এবং শক্তি বাড়াতে হবে।”
দলের ভেতরের অন্তর্ঘাত প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। অভিষেক বলেন, “আমি একটাই কথা বলব, আপনাদের ছেলেমেয়েরা যদি রাজনীতি করেন, ভাবুন কেমন লাগবে, যখন আপনার নাম গদ্দার শব্দের সঙ্গে যুক্ত হবে?”
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এটা নন্দীগ্রাম এর মাটিকে পবিত্র করার লড়াই। পবিত্র করকে জেতান। ভয় পাবেন না। আমি আছি। আমি আবার আসবো, দরকার হলে আরো দু-তিনবার আসবো। যে যে ভাষা বোঝে সেই ভাষায় তাকে জবাব দিতে হবে। এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না। ২৫টা দিন চাইছি। লড়ুন। দায়িত্ব নিন। বাকি পাঁচ বছরের দায়িত্ব আমার।”
উল্লেখযোগ্য, গত ১৭ মার্চ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগেই সকলকে চমকে দিয়ে দলে যোগ দেন পবিত্র কর। তিনি একসময় নন্দীগ্রামের বয়াল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান এবং বিজেপি নেতা ছিলেন। এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাকেই প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে তৃণমূল।
শুভেন্দুকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “এখানকার বিধায়ককে তো দেখাই যায় না। আমি জানতে চাই, এই এলাকার কতজনের বাড়িতে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে গিয়েছেন বিধায়ক? উনি নিজের বিধানসভা এলাকায় কাজের রিপোর্ট কার্ড দিন।”
নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ডায়মন্ড হারবারের জন্য যেমন করেছি, নন্দীগ্রামের জন্য সেরকমই করব। প্রতি পঞ্চায়েতে সেবাশ্রয় হবে। যতজন বার্ধক্য ভাতার আবেদন করেছেন সবাই পাবেন। সব আবেদনকারী বাড়ি পাবেন। পবিত্র জিতলে ডবল কাজ হবে। তালিকা বানান কোথায় কি লাগবে। মানুষ কি চান।
ভূমিপুত্র পবিত্র ভোটে জিতলে সব কাজ করা হবে আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা দিয়ে গেলাম। কিন্তু নন্দীগ্রামকে পাঁচ কিলোমিটার স্পিডে হাঁটালে চলবে না। ডায়মন্ড হারবারের মতো ১২০ কিলোমিটার স্পিডে ছুটতে হবে। কথা দিয়ে গেলাম যেখানে আমাদের বিভাগ নেই অথবা পঞ্চায়েতে সেখানে যেমন উন্নয়ন হয় তেমন এখানে হারলেও উন্নয়ন হবে তবে আমার বিশ্বাস তৃণমূল জিতবেই। এখানকার ভোটে জিতে, দিল্লি তল্পিবাহক হবে, যা আর হতে দেবেন না।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের ধাঁচে নন্দীগ্রামেও ‘সেবাশ্রয়’ শিবির আয়োজন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে।










