শাহের হাতেই প্রকাশ পাবে বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’, ২৮ মার্চে বড় চমক

নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যেই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ এবং ব্রিগেডের সভা আয়োজন করেছে বিজেপি। ভোটের রাজ্যে জনমত আকর্ষণে এবার তৃতীয় বড় পদক্ষেপ হিসেবে সামনে আসছে ‘সঙ্কল্পপত্র’ বা নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ। এই ইস্তাহার প্রকাশ করতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তাও দিল্লি নয়, সরাসরি কলকাতায় এসে এমনই প্রাথমিক পরিকল্পনা দলের। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও দলের বার্তা তৈরির বিভাগ ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি করার কাজ শুরু করেছে।

গত শুক্রবার নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। তবে ইস্তাহার প্রকাশের দিন সকাল পর্যন্ত এ নিয়ে বিশেষ কোনও প্রচার ছিল না তাদের তরফে। সকালে ঘোষণা করে বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তাহার প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সেই পথে না হেঁটে, ইস্তাহার প্রকাশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছে। প্রথম দিন থেকেই যাতে ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতিগুলি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়, তার জন্য কর্মসূচির গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। সেই কারণেই অমিত শাহকে দিয়ে ইস্তাহার প্রকাশ করানোর ভাবনা সামনে এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফরের চূড়ান্ত সূচি নির্ধারিত হয়নি। নির্দিষ্ট হলে তাঁর দফতর থেকে লিখিতভাবে তা রাজ্য বিজেপিকে জানানো হবে। তবে আপাতত ঠিক হয়েছে, ২৭ ও ২৮ মার্চ (শুক্র ও শনিবার) তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফরে থাকতে পারেন। ২৮ মার্চ, শনিবার রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁর হাত দিয়েই ইস্তাহার প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি সামনে আনতে চলেছে, তার আভাস আগেই মিলেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনায় আয়োজিত সভা থেকে অমিত শাহ একাধিক প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা, ছ’মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্য সরকারি পদে নিয়োগ, বিলুপ্ত পদ পুনরুজ্জীবন এবং চাকরির আবেদনকারীদের বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়ার মতো ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্য নিয়েই বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে।
এরপর থেকেই বিজেপির কাছে স্পষ্ট হয় যে, শাহের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করলে তার গুরুত্ব অনেকটাই বাড়ে। সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশেও তাঁকেই সামনে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রায়দিঘির সভায় ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলি যে ইস্তাহারে জায়গা পাবে, তা প্রায় নিশ্চিত। পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (বিজেপির ভাষায় ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’) এবং ‘যুবসাথী’-র মতো প্রকল্পগুলি নিয়ে বিজেপির অবস্থানও ইস্তাহারের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।
এছাড়া রাজ্যের অর্থনীতি, পরিকাঠামো, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় সহায়তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, যা এখনও পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হয়নি, সেগুলিও ইস্তাহারে উল্লেখ করা হতে পারে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত মতামতের প্রতিফলনও এতে দেখা যাবে।
গত কয়েক মাস ধরে বিজেপি রাজ্য জুড়ে ইস্তাহার তৈরির কাজকে একটি বড় উদ্যোগে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। রাজ্য দফতরের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় ‘ড্রপবক্স’ বসিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। দলের নেতা, সাংসদ ও বিধায়কেরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও সরাসরি গিয়ে পরামর্শ সংগ্রহ করেছেন।
রাজ্য বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’ কমিটির চেয়ারম্যান তাপস রায়ের কথায়, ‘‘রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সব ধরনের মানুষের কাছে গিয়ে আমরা পরামর্শ সংগ্রহ করেছি। প্রতিটি পরামর্শ দেখে ঝাড়াই-বাছাই করে আমরা সেরা সঙ্কল্পপত্র তৈরি করার চেষ্টা করেছি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়তো করতে পারেন।
তবে অমিত শাহের হাত দিয়ে সঙ্কল্পপত্রের উন্মোচন হবে, এর চেয়ে ভাল খবর কিছু হতেই পারে না।’’ তৃণমূলের ইস্তাহারকে ‘ভাঁওতা’ আখ্যা দিয়ে তাপস বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ সব সময়ে আগের বারের আর পরের বারের ইস্তাহার মিলিয়ে দেখেন না। মিলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, তৃণমূল ২০১১ সালে যা বলেছিল, ২০১৬ সালে বা ২০২১ সালেও সেই একই কথা ইস্তাহারে লিখেছিল। ২০২৬ সালে এসেও সেই একই ইস্তাহার!’’








