‘ইরানের আশপাশেই থাকবে মার্কিন সেনা’, সংঘর্ষবিরতি না মানলে কড়া হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

লেবাননকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে। এই উত্তেজনার আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সামরিক শক্তি ইরানের আশপাশেই মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেছেন, সংঘর্ষবিরতির শর্ত ভঙ্গ হলে ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হতে পারে।

বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমেরিকার সব যুদ্ধবিমান, জাহাজ, সেনা, গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র ইরানের ভিতরে ও আস্পাসে অবস্থান করবে। যতক্ষণ না চুক্তি পুরোপুরি মানা হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘যদি কোনও কারণে তা না হয় (চুক্তি মানা না হয়), তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে গোলাবর্ষণ শুরু হবে। আরও বড়, আরও ভয়াবহ এবং আরও শক্তিশালীভাবে তা হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’
অন্যদিকে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বুধবার লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সংঘর্ষবিরতির শর্তে লেবাননের প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেন, “লেবাননে হামলা করব না এমন কোনও প্রতিশ্রুতি আমরা দেইনি।”
এই আবহে ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে নিতে হবে। তারা সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটবে, নাকি ইজরায়েলের কথা শুনে যুদ্ধ জারি রাখবে? কারণ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।”
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। লেবাননে হামলার জেরে ইরানও পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এমনকি তেল আভিভে আক্রমণের ইঙ্গিতও মিলেছে। এই টানটান পরিস্থিতির মাঝেই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।












