বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

নন্দীগ্রাম দখলে মরিয়া তৃণমূল, প্রচারের শুরুতেই শুভেন্দুর ঘাঁটিতে অভিষেক

Published on: March 21, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

নন্দীগ্রাম একসময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ‘কর্মভূমি’। ২০২১ সালে সেই কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছিল, আর ২০২৬-এ সেটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছে রাজ্যের শাসকদল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই নন্দীগ্রাম ঘিরে একটি বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করেছেন, যার সূচনা হয়েছিল জানুয়ারি মাসে। ভোট ঘোষণার পর প্রচারের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

তৃণমূলের তরফে অভিষেকের প্রথম দু’দিনের প্রচারসূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে শুরু হবে তাঁর প্রচার অভিযান। প্রথম জনসভা হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই জেলা থেকেই প্রচার শুরু করে থাকেন, কারণ তিনি এখানকারই সাংসদ। এবারও সেই ধারা বজায় থাকছে। এরপরের দিনই তিনি পৌঁছে যাবেন নন্দীগ্রামে। বুধবার প্রথমে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে জনসভা করবেন, তারপর কেশিয়াড়ি ও নারায়ণগড় বিধানসভা এলাকায় সভা সেরে সেখান থেকেই রওনা দেবেন নন্দীগ্রামের উদ্দেশে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ছিল রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এবারে শুভেন্দু অধিকারী নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী হয়েছেন, যার উদ্দেশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজস্ব কেন্দ্রে ব্যস্ত রাখা। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন নন্দীগ্রামেই শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন নেতা পবিত্র করকে, যিনি প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই অভিষেকের হাত ধরে দলে যোগ দেন।

রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিত কৌশলেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পবিত্র করকে প্রার্থী করা হয়েছে। একসময় ‘হিন্দু সংহতি’র সঙ্গে যুক্ত থাকা পবিত্র নন্দীগ্রামের হিন্দু সংখ্যাগুরু ২ নম্বর ব্লকের পরিচিত মুখ। তাঁর স্ত্রী স্থানীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রধান। অতীতে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি এবং ওই ব্লক থেকেই শুভেন্দু বড় লিড পেয়েছিলেন গত নির্বাচনে। বিশেষ করে বয়াল-১ ও বয়াল-২ অঞ্চল থেকে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়েছিলেন। এবার সেই এলাকাতেই ‘হিন্দু মুখ’ হিসেবে পবিত্রকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল, যাতে শুভেন্দুর মূল ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলা যায়। অন্যদিকে ১ নম্বর ব্লক সংখ্যালঘু প্রধান হওয়ায় সেখানে তৃণমূলের অবস্থান তুলনামূলক শক্তিশালী বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সুপরিকল্পিতভাবেই নন্দীগ্রামকে ঘিরে এগোচ্ছে তৃণমূল।

শাসকদলের মতে, সঠিকভাবে জনসংযোগ গড়ে তুলতে পারলে নন্দীগ্রামে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। সেই কারণেই প্রচারের শুরুতেই এই কেন্দ্রে জোর দিচ্ছেন অভিষেক। যদিও জানুয়ারি মাসেই তিনি নন্দীগ্রামে জনসংযোগের সূচনা করেছিলেন। নিজের মডেল ‘সেবাশ্রয়’ শিবির সেখানে চালু করেছিলেন তিনি এবং উদ্বোধনের দিন নিজেও উপস্থিত ছিলেন। নানা বাধা সত্ত্বেও সেই স্বাস্থ্য শিবিরে মানুষের ব্যাপক সাড়া মেলে। এর ফলে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে নন্দীগ্রামের একাধিক সমবায় নির্বাচনে তৃণমূল সাফল্যও পায়। এবার ফের সেখানে গিয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করাই অভিষেকের লক্ষ্য।

Join Telegram

Join Now