২২ বছরের আক্ষেপ মেটাল ইস্টবেঙ্গল: এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক ও হাবাস-ম্যাজিক


ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই যুবভারতীতে যেন আবেগের আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ ঘটল। ২০০৪ সালের পর প্রথম বার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরল লাল-হলুদ ব্রিগেড। দু’বছর আগে ফাইনালের হার আর চলতি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের হারের নিখুঁত বদলা নিল তারা।
ম্যাচের সেরা মুহূর্ত ও গোল-চিত্র:
- ১০ মিনিট (১-০): মহম্মদ রশিদের বাড়ানো পাস ধরে বিপিন সিংয়ের দূরপাল্লার শটে প্রথম গোল।
- ১২ মিনিট (২-০): জিকসন সিংয়ের পাস থেকে নিচু শটে এডমুন্ড লালরিন্ডিকার প্রথম গোল।
- ২২ মিনিট (৩-০): দানি রামিরেজ়ের থ্রু পাস ধরে বিশাল কাইথকে কাটিয়ে এডমুন্ডের দ্বিতীয় গোল।
- ৩২ মিনিট (৩-১): মনবীর সিংয়ের জোরালো শটে মোহনবাগানের ব্যবধান কমানো।
- ৪৪ মিনিট (৪-১): জয় গুপ্তর মাইনাস থেকে সুযোগসন্ধানী শটে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ।
এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক ও নতুন ইতিহাস ভাইচুং ভুটিয়া ও কিয়ান নাসিরির পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে কলকাতা ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়লেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। প্রথমার্ধেই ৪-১ গোলের এগিয়ে যাওয়ার পর সমর্থকদের মনে ভেসে উঠছিল ১৯৭৫ সালের সেই ঐতিহাসিক ৫-০ জয়ের স্মৃতি।
নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হাবাস কয়েক মাস আগেও যে দলটি হতাশায় ডুবে ছিল, সেই দলের রক্ষণ ও মাঝমাঠে শৃঙ্খলা এনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস। ফাইনালের জন্য তাঁর নিখুঁত কৌশল ও এডমুন্ডকে প্রথম একাদশে নামানোর সাহসিকতাই এই জয়ের আসল চাবিকাঠি।
লাল-হলুদ আবির, ফাটতে থাকা বাজি আর জ্বলন্ত মশালের আলোয় যুবভারতী সাক্ষী থাকল এক নতুন ইতিহাসের—যেখানে লেখা রইল লাল-হলুদের ঘুরে দাঁড়ানো আর হাবাসের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলের কথা।











