অলিম্পিকে সোনা জিতলেই ৮ কোটি! বঙ্গ খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করতে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের একগুচ্ছ বড় ঘোষণা
বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ডাক দিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নির্দেশে এবং ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রককে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়াবিদদের জন্য পুরস্কার মূল্য বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে রাজ্যজুড়ে ‘ক্রীড়া মহোৎসব’ আয়োজনের মতো একাধিক মেগা ঘোষণা করেন ক্রীড়ামন্ত্রী।

🏆 পদক বিজেতাদের জন্য পুরস্কার মূল্যের ঐতিহাসিক বৃদ্ধি
আগের সরকারের তুলনায় মেডেল প্রাপকদের আর্থিক পুরস্কারের অঙ্ক একধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত পুরস্কার মূল্যের তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:

১. অলিম্পিক গেমস (Olympic Games)
- স্বর্ণপদক (সোনা): ৮ কোটি টাকা (আগে ছিল মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা)
- রৌপ্যপদক (রুপো): ৬ কোটি টাকা (আগে ছিল ১৫ লক্ষ টাকা)
- ব্রোঞ্জপদক: ৪ কোটি টাকা (আগে ছিল ১০ লক্ষ টাকা)
২. এশিয়ান গেমস (Asian Games)
- সোনা: ৫ কোটি টাকা (আগে ছিল সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা)
- রুপো: ৪ কোটি টাকা
- ব্রোঞ্জ: ২ কোটি টাকা
৩. কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games)
- সোনা: দেড় কোটি টাকা (আগে ছিল ৫ লক্ষ টাকা)
- রুপো: ৭৫ লক্ষ টাকা (আগে ছিল ৩ লক্ষ টাকা)
- ব্রোঞ্জ: ৫০ লক্ষ টাকা (আগে ছিল ২ লক্ষ টাকা)
৪. বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ (World Championship)
- সোনা: ২ কোটি টাকা
- রুপো: দেড় কোটি টাকা
- ব্রোঞ্জ: ১ কোটি টাকা
৫. ন্যাশনাল গেমস (National Games)
- সোনা: ৭ লক্ষ টাকা
- রুপো: ৬ লক্ষ টাকা
- ব্রোঞ্জ: ৫ লক্ষ টাকা
💼 সরাসরি সরকারি চাকরি: অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক বা কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে মেডেল জয়ী খেলোয়াড়দের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ডিএসপি (DSP) পদমর্যাদা পর্যন্ত সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
🏟️ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও যুবভারতী থেকে ‘অদ্ভুত’ মূর্তি অপসারণ
- যুবভারতীর সংস্কার: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে থাকা বিতর্কিত ‘অদ্ভুত’ মূর্তিটি সরানোর দায়িত্ব ইতিমধ্যে পূর্তদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেখানে বাংলার কোনো কিংবদন্তি ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক মানের ট্র্যাক: রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে অলিম্পিক পর্যায়ের আধুনিক অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক স্থাপন করা হবে।
- জাতীয় ক্রীড়া নীতি: বাংলায় এবার থেকে সার্বিকভাবে ‘জাতীয় ক্রীড়া নীতি’ প্রয়োগ করা হবে।
🎯 প্রান্তিক প্রতিভা অন্বেষণে ‘রাজ্য ক্রীড়া মহোৎসব’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায় ১২টি খেলা নিয়ে আয়োজিত হবে মেগা ‘ক্রীড়া মহোৎসব’।
- উদ্দেশ্য: গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চল থেকে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভাদের তুলে আনা।
- মেগা ফাইনাল: জেলা স্তরের লড়াই শেষে এই মহোৎসবের মূল গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়।
🤝 আগামী দিনের ব্লু-প্রিন্ট
ক্রীড়ামন্ত্রককে আধুনিক ও গতিশীল করতে একটি বিশেষ অ্যাডভাইসারি কমিটি (Advisory Committee) তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দিনে কেন্দ্র সরকারের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ (Khelo India) এবং ‘সাই’ (SAI – Sports Authority of India)-এর সঙ্গে যৌথভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করবে বাংলার ক্রীড়ামন্ত্রক।
নিঃসন্দেহে নতুন সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাংলার ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।









