২০ বছরের অধ্যায়ের ইতি! বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেন নীতীশ

দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের অধ্যায়ের ইতি টেনে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন নীতীশ কুমার। মঙ্গলবার দুপুরে পাটনার লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি এবং নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। একইসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশও করেন।

পদত্যাগের পর নীতীশ কুমার তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি বার্তায় লেখেন, ‘২০০৫ সালের ২৪ নভেম্বর বিহারে প্রথমবার এনডিএ সরকার গঠিত হয়েছিল। তখন থেকে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। উন্নয়নের প্রতি আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। হিন্দু, মুসলিম, উচ্চবর্ণ, অনগ্রসর শ্রেণি, দলিত-সহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য আমরা কাজ করেছি।’
তিনি বলেন, “আমাদের সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ-সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব কাজ করেছে। নারী এবং যুবকদের উপর আমরা বিশেষ মনোযোগ দিয়েছি। নতুন সরকার এই দায়িত্বগুলি এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিহারের উন্নতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকবে।” উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজ্যসভায় শপথ নিয়েছেন নীতীশ।
এই পদত্যাগের পর বিহারে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখন প্রশ্ন, বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? শোনা যাচ্ছে, বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরির নামই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যদিও একসময় নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের নামও সামনে এসেছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। বরং ক্রমশ জোরালো হতে থাকে সম্রাট চৌধুরির সম্ভাবনা।
গত দু’বছর ধরে তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দলের মধ্যে নিজের প্রভাব তৈরি করেছেন। জানা যাচ্ছে, এবার তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে পারে বিজেপি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিহারে বিজেপির কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন। পাশাপাশি, নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।











