ফাইনালের রাতেই কি জবির জীবনে শুরু হবে নতুন অধ্যায়?
ট্রফি না বাগদান- কোন স্বপ্নকে আগে ছোঁবেন জবি?

ইস্টবেঙ্গলের গোলদাতা এবার নর্থইস্টকে কাঁপাবেন?

বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি ডায়মন্ড হারবার – কি অপেক্ষা করছে যুবভারতীতে?
এখন একটাই প্রশ্ন- কে হবে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন?
একটা রাত, দুই স্বপ্ন। একদিকে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি, অন্যদিকে বহু দিনের প্রেমিকার সঙ্গে বাগদানের প্রস্তুতি। সবটাই নির্ভর করছে এক জনের পায়ের জাদুর উপর—জবি জাস্টিন। শনিবার রাতে যুবভারতীতে যখন ডায়মন্ড হারবার নামবে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে, গোটা বাংলার দৃষ্টি থাকবে জবির দিকে। কারণ তিনি শুধু গোলদাতা নন, তিনি সেই নায়ক যাঁর এক ঝলকের ফুটবলে ভাগ্য বদলাতে পারে ক্লাবের, আর পরদিনই পাল্টে যাবে তাঁর নিজের জীবনের অধ্যায়।
বুধবার রাতে ইস্টবেঙ্গলের জালে গোল করার পরও জবির মুখে ছিল অদ্ভুত শান্তি। কেন উচ্ছ্বাস দেখালেন না? তাঁর সরল উত্তর, “ওই জার্সিতেই আমি পরিচিতি পেয়েছি। তাই পুরোনো ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করে সেলিব্রেশন করতে চাইনি।” কিন্তু এবার ফাইনালে এমন কোনও বাঁধা নেই। জবির কথাতেই স্পষ্ট, নর্থইস্টের জালে বল জড়ালেই আসল উদ্যাপন হবে। আর সেই উদ্যাপনই হয়তো তাঁর জীবনের সেরা উপহার—ট্রফি আর বাগদান দুটোই এক সঙ্গে।
কেরালার এই ফুটবলার ইস্টবেঙ্গলে শুরু করেছিলেন কেরিয়ার। লাল-হলুদ জার্সিতে মোহনবাগানের জালে তিনবার বল জড়িয়েছেন তিনি। এরপর এটিকে, চেন্নাইয়িন, গোকুলম কেরালা, ভবানীপুর—সব জায়গাতেই খেলেছেন। কিন্তু শুরু থেকেই ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে থেকেছেন জবি। তাঁর অভিজ্ঞতা স্পষ্ট, “বড় ক্লাবগুলোয় পরিকাঠামো দেখেছি। কিন্তু ডায়মন্ড হারবার শুরু থেকেই নিজেদের বড় ক্লাব ভেবেছে। লক্ষ্য ছিল মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে টক্কর দেওয়া।”
আজ সেই লক্ষ্য পূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে টিম। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ড থেকে বিদায় নিয়েছে। ফলে গোটা বাংলার প্রতিনিধিত্ব করছে একাই ডায়মন্ড হারবার। আর তাই বাংলার অন্যান্য ক্লাবও পাশে দাঁড়িয়েছে। মোহনবাগান প্রেসিডেন্ট দেবাশিস দত্তের বক্তব্য, “বাংলার স্বার্থে ডায়মন্ড হারবারকে সমর্থন করা উচিত।” ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকারের অনুরোধ, “আমরা ওদের কাছে হেরেছি ঠিকই, কিন্তু সমর্থকদের বলব মাঠে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারকে উৎসাহ দিন।” মহামেডানের সচিব ইস্তিয়াক আহমেদের সোজা কথা, “বাংলার সব ফুটবলপ্রেমীকে অনুরোধ করছি শনিবার মাঠে আসতে। এখানে কোনও বিভেদ নেই।”
ডায়মন্ড হারবারও সেই সমর্থকদের মাঠে আনতে উদ্যোগী। টিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “তিরিশ হাজার সমর্থক গলা ফাটাবেন। ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ আসবেন।” যেন গোটা বাংলার একটাই স্লোগান—‘চ্যাম্পিয়ন’।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেডও তৈরি। নিজেদের মাঠে প্র্যাক্টিস সেরে শুক্রবারই কলকাতায় নামছে তারা। কোচ কিবু বিকুনিয়া বৃহস্পতিবার ফুটবলারদের বিশ্রাম দিলেও শুক্রবার থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বে গোটা দল। ফাইনালের মঞ্চে কারওরই আর দ্বিতীয় সুযোগ নেই।
চোট-আঘাতের ধাক্কা সামলেও জবি বারবার ফিরে এসেছেন। তাঁর নিজের কথায়, “সঠিক ভাবে প্র্যাক্টিস করলে ফিটনেস কোনও সমস্যাই নয়।” তাই আজ তাঁর পায়ে ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের, সমর্থকদের, এমনকি গোটা বাংলার।
এক রাতেই কি মিলবে দুটি স্বপ্ন- ট্রফি আর বাগদান? উত্তর মিলবে শনিবার যুবভারতীর সবুজ গালিচায়। আর সেখানে দাঁড়িয়ে জবি জাস্টিন প্রমাণ করবেন, তিনি শুধু ফুটবলার নন, তিনি এক সত্যিকারের গল্পের নায়ক।