শিশু নিরাপত্তায় গাফিলতি, মেটার উপর ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগে এবার বড়সড় আইনি চাপে পড়ল মেটা। প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা হিসেবে মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং শিশুদের শোষণ রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। অভিযোগ ওঠে, প্ল্যাটফর্মে নাবালক ব্যবহারকারীদের এমন কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল যা ছিল যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিশু নির্যাতনমূলক দৃশ্যও সামনে আসছিল বলে দাবি করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, অ্যালগরিদমের মাধ্যমেই এই ধরনের কনটেন্ট পৌঁছে দেওয়া হত। জুরি বোর্ডের পর্যবেক্ষণ, মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিকে উপেক্ষা করেছে, যার ফলে প্ল্যাটফর্মটি অপরাধীদের জন্য সহজ হয়ে ওঠে। সেই কারণেই সংস্থার উপর সর্বোচ্চ অঙ্কের জরিমানা চাপানো হয়েছে।
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টরেজ জানিয়েছেন, এই রায় ‘ঐতিহাসিক’। কেননা এই প্রথম কোনও মার্কিন প্রদেশ মেটাকে শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে অভিযুক্ত করতে সফল হল। এদিকে মেয়ার এক মুখপাত্র জানাচ্ছেন, এই রায়ের সঙ্গে সংস্থা সম্পূর্ণ বিরুদ্ধমত। তাঁরা এর বিরুদ্ধে আবেদন করবেন। তিনি বলেছেন, ”আমাদের প্ল্যাটফর্মগুলিতে মানুষকে নিরাপদ রাখতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
ক্ষতিকর ব্যক্তি ও আপত্তিকর বিষয়বস্তু শনাক্ত ও অপসারণের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলি রয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাদের অতীত রেকর্ডের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিকর কনটেন্ট সম্পূর্ণ নির্মূল করা অসম্ভব।
সূত্রের খবর, টানা সাত সপ্তাহ ধরে এই মামলার শুনানি চলে। জুরিদের সামনে মেটার অভ্যন্তরীণ নথি পেশ করা হয় এবং সেগুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রাক্তন কর্মীদের সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়। সবশেষে সমস্ত দিক বিবেচনা করে নিউ মেক্সিকোর আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করে।












