লক্ষ্য ২০২৬: মমতার ১০ অঙ্গীকারে নতুন বাংলার ডাক, ইশতেহারে বড় চমক
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ২০ মার্চ, ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আজ দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের হাইভোল্টেজ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করলেন দলীয় নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের ইশতেহারে মূলত ‘উন্নয়ন’ এবং ‘সামাজিক সুরক্ষা’—এই দুই স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ‘১০টি অঙ্গীকার’ ঘোষণা করেছেন তিনি।

ইশতেহারের প্রধান আকর্ষণসমূহ:
মুখ্যমন্ত্রী আজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বাংলা যেভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সেই গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। ইশতেহারে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে:

- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যাপ্তি: বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর আর্থিক অনুদান আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের স্বনির্ভর করতে নতুন কিছু প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে।
- শিল্প ও কর্মসংস্থান: সিলিকন ভ্যালি (নিউ টাউন) এবং দেউচা-পাচামি কয়লা খনি প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আইটি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে বড় বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
- বিনামূল্যে রেশন ও স্বাস্থ্যসাথী: ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের মাধ্যমে জনপরিষেবা আরও সহজ করা এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
- কৃষি ও কৃষক বন্ধু: কৃষকদের জন্য বার্ষিক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো এবং কৃষি ঋণের ওপর বিশেষ ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
- শিক্ষা ও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড: ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সীমা বৃদ্ধি এবং নতুন কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
“বাংলাই পথ দেখাবে”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। আমাদের ইশতেহার মানে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, এটি মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা। গত ১০ বছরে আমরা যা করেছি, আগামী দিনে তার থেকেও বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব। বাংলাই হবে ভারতের ভবিষ্যৎ শিল্পের গন্তব্য।”
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
ভোটের ঠিক মুখে মমতার এই ‘১০ অঙ্গীকার’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিরোধীরা যখন নানা ইস্যুতে আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন সরাসরি উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট সামনে এনে সাধারণ মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করলেন তৃণমূল নেত্রী।











