শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা হলো বাঙালির শিল্প, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার এক মিলনমেলা। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা গ্রহণকে স্মরণীয় করে রাখতে এই মেলার সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়।
২০২৫ সালের পৌষ মেলা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. মেলার সময় ও তারিখ (২০২৫)

- শুরু: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ (বাংলা ৭ই পৌষ, মঙ্গলবার)।
- শেষ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ব্যাপ্তি: প্রথাগতভাবে ৩ দিনের হলেও, এ বছর মেলা ৬ দিন ধরে চলছে।
২. অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ - ব্রহ্ম উপাসনা: মেলার প্রথম দিন (৭ই পৌষ) খুব ভোরে শান্তিনিকেতনের ছাতিমতলায় বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রী ও আশ্রমিকরা গান ও স্তোত্রপাঠের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
- বৈতালিক: ভোরে আশ্রম প্রাঙ্গণে গান গেয়ে ঘুরে বেড়ানো বা ‘বৈতালিক’ এই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- লোকসংস্কৃতি: মেলায় বীরভূমের বিখ্যাত বাউল গান, সাঁওতালি নাচ এবং লোকনাট্য (যাত্রা) পরিবেশিত হয়।
৩. কেনাকাটা ও প্রদর্শনী - হস্তশিল্প: শান্তিনিকেতনি কাঁথা স্টিচের কাজ, বাটিকের শাড়ি, চামড়ার কাজ (শান্তিনিকেতনি ব্যাগ), ডোকরা শিল্প এবং পোড়ামাটির (টেরাকোটা) গয়না ও ঘর সাজানোর জিনিসের জন্য এই মেলা বিখ্যাত। এ বছর প্রায় ১৩৫০টি স্টল বসেছে।
- বিভাগীয় প্রদর্শনী: বিশ্বভারতীর কলাভবন, শিক্ষাভবন এবং রবীন্দ্রভবন থেকে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
৪. বিশেষত্ব: ইউনেস্কো হেরিটেজ স্বীকৃতি
শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বা বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবারের পৌষ মেলা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এ বছর ভিড়ও অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি এবং নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৫. অবস্থান ও যাতায়াত- স্থান: বোলপুর শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লীর মেলা প্রাঙ্গণ।
- কিভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে (শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, গণদেবতা বা অগ্নিবীণা) বোলপুর স্টেশনে নেমে টোটো করে সরাসরি মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছানো যায়।
টিপস: মেলার সময় বোলপুরে হোটেলের প্রচণ্ড চাহিদা থাকে, তাই অনেক আগে থেকে বুকিং করে রাখা ভালো। এছাড়া শীতের সন্ধ্যায় মেলার মাঠে বাউল গানের আসর মিস করবেন না।












