বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএকে তদন্তের নির্দেশ

Published on: April 6, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএকে তদন্তের নির্দেশ, ডিজি ও মুখ্যসচিবকে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা

মোথাবাড়ি কাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টে ভারচুয়াল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতে শীর্ষ আদালত রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালকে তীব্র ‘ভর্ৎসনা’ করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের দায়ের করা ১২টি এফআইআরের তদন্ত সম্পূর্ণরূপে এনআইএ করবে এবং সেই রিপোর্ট শীর্ষ আদালতে জমা দিতে হবে। সোমবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই মামলার প্রাথমিক রিপোর্ট শীর্ষ আদালতে জমা দেয়। রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে দিল্লির সদর দপ্তরে এনআইএ কর্মকর্তারা একপ্রস্থ বিশেষ বৈঠকও করেন।

এদিনের শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের নাকাশিপাড়ায় প্রচারসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা সিআরপিএফকে কাজে লাগিয়ে হামলার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শুনানিতে এ প্রসঙ্গ ওঠে এবং কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু ভিডিও ক্লিপিংস আদালতে জমা দেন। মোথাবাড়ি কাণ্ড উল্লেখ করে তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ করে নির্বাচন কমিশন।

একই সঙ্গে, কেন্দ্রের আইনজীবী সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ওঁরা (জুডিশিয়াল অফিসার) কান্নাকাটি করছেন। বলছেন, আমাদের বাঁচান। এই তো পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা।” সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, রাজ্য প্রশাসন কাজ না করলে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করা হবে। ট্রাইবুনাল প্রধান শিবজ্ঞানমের চিঠি দেখানোর জন্য এই প্রথমবার মোবাইল হাতে এজলাসে উপস্থিত হন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। এদিন শুনানিতে গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনের হিংসার প্রসঙ্গও উঠে।

এদিকে এনআইএ জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী মোট ১২টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মকর্তারা করেছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মত দিয়েছেন, এর ফলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এনআইএ-এর হাতে হস্তান্তর করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এনআইএ চাইলে নতুন করে এফআইআর দায়েরের পর তদন্ত করতে পারে এবং রিপোর্ট অবশ্যই শীর্ষ আদালতে জমা দিতে হবে।

মুখ্যসচিব এবং ডিজি হলফনামা জমা দিয়েছেন। তারা জানান, পুলিশ সঠিক সময়ে তদন্ত করে মোথাবাড়ি কাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং তাঁর শাগরেদকে গ্রেপ্তার করেছে। দু’জনকেই এনআইএ-এর হাতে দ্রুত হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন কেন ঘটনার দিন ফোনে মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি কী করছিলেন। এছাড়া রাত দু’টোর সময় কেন প্রধান বিচারপতিকে ঘটনার খবর জানানো হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন যে রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় গলদ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় গত ১লা এপ্রিল সকাল থেকেই মালদহের কালিয়াচক এলাকায় জনরোষ বৃদ্ধি পায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখে, যেখানে ৩ জন নারী বিচারকও ছিলেন।

শেষমেশ গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় এবং সুপ্রিম কোর্টও এতে হস্তক্ষেপ করে। ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব এনআইএ-কে দেওয়া হয়। এছাড়া রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি, মালদহের পুলিশ সুপার ও জেলা শাসককেও শোকজ নোটিস দেওয়া হয়। সোমবার শীর্ষ আদালতে ভারচুয়ালি হাজিরা দেন তারা এবং আদালতের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।

Join Telegram

Join Now