পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ইডির তৎপরতা, বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয়; নজরে ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন

শনিবার সকালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাসভবনে পৌঁছয় ইডির একটি দল। সকাল প্রায় পৌনে এগারোটা নাগাদ শুরু হয় এই তল্লাশি অভিযান। বাড়ির বাইরে মোতায়েন থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তৈরি করা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়। একইসঙ্গে ‘মিডলম্যান’ প্রসন্নকুমার রায়ের নিউটাউনের অফিসেও যান তদন্তকারী আধিকারিকরা।

অন্যদিকে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির নজরে রয়েছেন সুজিত বসু। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজির হন তাঁর ছেলে সমুদ্র। এদিন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও তলব করা হলেও, তিনি এখনও পর্যন্ত সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছননি। ভোটের প্রাক্কালে ইডির এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে, এবং শাসকদলের তরফে এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে। এরপর প্রথমে অর্পিতা গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই যুক্ত হলে তাঁকেও ‘শোন অ্যারেস্ট’ করা হয়।
সেই সময় থেকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ছিলেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একাধিকবার জামিনের আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি।
এরপর অন্য মামলাতেও নিম্ন আদালত থেকে জামিন মেলে তাঁর, যদিও তাতেও অবিলম্বে মুক্তি মেলেনি। পরবর্তীতে সিবিআই মামলায়ও জামিন পান পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনি আপাতত জামিনে বাইরে রয়েছেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে তলব করেছে ইডি।
তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বারবার দপ্তরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি তদন্তকারী সংস্থাকে জানান এবং বাড়িতে এসে জেরা করার আবেদন করেন। সূত্রের খবর, সেই আবেদন মেনেই শনিবার সকালে ইডির আধিকারিকরা তাঁর নাকতলার বাসভবনে পৌঁছন। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন।












