ভোটের লড়াইয়ে ‘দিদি’ ও ‘সেনাপতি’, আজ থেকেই জোড় প্রচার শুরু
প্রচলিত প্রবাদ, ‘মঙ্গলে উষা বুধে পা/ যথা ইচ্ছা তথা যা।’ সেই ভাবনাকেই সঙ্গী করে মঙ্গলবার থেকেই মাঠে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনটির কর্মসূচি অনুযায়ী, চালসার একটি গির্জায় গিয়ে স্থানীয় প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন তিনি। বুধবার থেকে ময়নাগুড়ি দিয়ে শুরু হবে পূর্ণমাত্রার জনসভা। এরপর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব-মধ্য হয়ে পশ্চিম প্রায় একমাস রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফরে থাকবেন তৃণমূল নেত্রী। এই সফরকে সামনে রেখেই চতুর্থবার ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকার গঠনের লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছেন তিনি।


একইসঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মঙ্গলবার থেকেই নির্বাচনী প্রচারে নামছেন। নিজের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর প্রচার কর্মসূচি। আজ দুপুরে পাথরপ্রতিমা কলেজ ময়দানে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সভা করবেন তিনি। এরপর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে টানা একমাসের ব্যস্ত সূচি রয়েছে তাঁরও।
উত্তরবঙ্গ থেকেই নির্বাচনী সফর শুরু করার রীতি বহুদিনের। উন্নয়নের নানা প্রকল্প উপহার দেওয়া সত্ত্বেও ভোটে প্রত্যাশিত সাফল্য সবসময় মেলেনি। তবুও আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই তিস্তা-তোর্সা-মহানন্দার অঞ্চল থেকেই আবারও প্রচার শুরু করছেন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে টিয়াবনের হেলিপ্যাডে নেমে সেখান থেকে মেটেলির একটি বেসরকারি হোটেলে পৌঁছবেন তিনি। পরে বিকেল চারটের সময় জ্যোতি আশ্রম ক্যাথলিক চার্জে গিয়ে ফাদার ও অন্যান্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। নাগরাকাটের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্জয় কুজুর জানান, ”আপনারা জানেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সবার সঙ্গেই দেখাসাক্ষাৎ করেন। সেজন্যেই মঙ্গলবার বিকালে তিনি এই আশ্রমে আসবেন। আমি আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করে গেলাম এবং তাঁদের অবগত করে গেলাম।”
সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াই যেমন কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে, তেমনই নির্বাচন কমিশনকেও ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। ভোট যত এগোবে, এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায় সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, যেখানে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল-সহ মোট ১৫২টি আসনে ভোট হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গেও একই দিনে প্রচারে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর দুটোয় পাথরপ্রতিমা কলেজ ময়দানে প্রার্থী সমীরকুমার জানার সমর্থনে সভা করবেন তিনি। বুধবার নন্দীগ্রামে কর্মিসভার পাশাপাশি মেদিনীপুরের আরও দুটি কেন্দ্রে প্রচার চালাবেন। এরপর তাঁর গন্তব্য উত্তরবঙ্গ। মাসের শেষ পর্যন্ত দুই বঙ্গের একাধিক কেন্দ্রে টানা প্রচার চালিয়ে যাবেন তিনি।
বিজেপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ‘একপেশে’ সিদ্ধান্তগুলোকেও প্রচারে ইস্যু করতে চাইছে তৃণমূল। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং কেন্দ্রের ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ মনোভাবকে আক্রমণ করেই নির্বাচনী লড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত শাসকদল।








