৭ মিনিটের মধ্যেই ‘গেট লস্ট’ মন্তব্য! ডেরেকের বিস্ফোরক অভিযোগ, পালটা জবাব কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়েই আলোচনা করতে বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই তাঁদের অপমান করে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এই অভিযোগ খারিজ করে পালটা জানায়, বৈঠকের সময় তৃণমূলের প্রতিনিধিরাই অশালীন আচরণ করেছিলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন।

বুধবার সকালে নির্ধারিত সময়েই জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে এবং মেনকা গুরুস্বামী। মূলত পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়েই তাঁরা আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে বাইরে এসে ডেরেক দাবি করেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের অপমান করা হয় এবং বৈঠক শেষ করে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, “আমরা সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল। আর সেই দলের চার প্রতিনিধিকে বেরিয়ে যেতে বলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।”
অন্যদিকে কমিশনের বক্তব্য, বৈঠকের সময় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উত্তেজিত আচরণ করেন এবং উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। তাঁদের শালীনতা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচন হবে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত, ছাপ্পামুক্ত এবং বুথজ্যামমুক্ত। যদিও ডেরেক ও’ব্রায়েনের দাবি, এই ধরনের কোনও মন্তব্য তাঁদের সামনে করা হয়নি এবং বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, স্বল্প সময়ের ওই বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধি দল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে। এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোট ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে, কিন্তু তার একটিরও জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ। বুধবারের বৈঠকেও এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়।












