রিঙ্কুকে এত দেরিতে নামানো কেন? রাহানেকে প্রশ্ন সৌরভের
বাইপাসের ধারে একটি পাঁচতারা হোটেলে জমেছিল তারকাখচিত আসর। উপস্থিত ছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে বঙ্গ ক্রিকেটের একাধিক পরিচিত মুখ ঋদ্ধিমান সাহা, মনোজ তিওয়ারি, দীপ দাশগুপ্ত, ঝুলন গোস্বামী, উৎপল চট্টোপাধ্যায়রা। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছন কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং। অল্প সময়ের মধ্যেই যোগ দেন মহম্মদ শামিও।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রায় দু’ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের নতুন সংস্করণের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মঞ্চে ডেকে সম্মান জানানো হয়। উল্লেখ্য, আগের দুই সংস্করণে মোট আটটি দল অংশ নিয়েছিল।
এবছর একটি নতুন দল যুক্ত হওয়ায় দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়। আগামী ২৭ এপ্রিল হবে টুর্নামেন্টের ড্রাফট। আগামী বছর থেকে আইপিএলের ধাঁচে নিলাম প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সিএবি-র। গতবার এই লিগে অংশ নেননি মহম্মদ শামি, তবে এবারে তাঁর খেলার ইচ্ছা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সৌরভ, ঝুলন ও শামির সঙ্গে রাহানে এবং রিঙ্কুকে নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্ব। ঝুলন বলেন, “মহিলা ক্রিকেট এখন আরও উন্নত হচ্ছে। এমন টুর্নামেন্টের ফলে মহিলা ক্রিকেটের প্রসার ঘটছে। এখানে ক্লাব ক্রিকেটও শুরু হয়েছে।” কথোপকথনের মাঝে উঠে আসে আইপিএলে কেকেআরের প্রসঙ্গও। সেই সময় রাহানের কাছে একটি অনুরোধ জানান সৌরভ।
তিনি চান ব্যাটিং অর্ডারে রিঙ্কুকে আরও উপরের দিকে খেলানো হোক। সৌরভ বলেন, “রিঙ্কু অনেকটা নিচে ব্যাটিং করতে নামছে। রাহানে তোমাকে একটা অনুরোধ করছি। রিঙ্কুকে একটু উপরে ব্যাট করতে নামাও। যাতে ও উইকেটে বেশি সময় কাটাতে পারে।”
অন্যদিকে কেকেআরের অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে রাহানে বলেন, “কেকেআরের অধিনায়ক হওয়ার অনুভূতি দুর্দান্ত। আমাকে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ। আইপিএল জেতাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বেশ কয়েক বছর খেলছি। টিমের পরিবেশ দুর্দান্ত। শাহরুখ খান সবার কাছে যেন বড় দাদার মতো। সবাইকে খুব সাপোর্ট করেন। ওঁর জন্য আমাদের সেরাটা দিতে হবে।
সমর্থকদের জন্য সেরাটা দিতে হবে। ইডেনে খেলার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। এখানকার সমর্থকরা প্রচণ্ড প্যাশনেট। অদ্ভুত একটা আবেগ আছে ওদের মধ্যে। আইপিএল বলে বলছি না। এখানে যখন রনজি খেলতে এসেছি তখনও সেটা উপলব্ধি করেছি। বাংলা-মুম্বই খেলা ছিল। তখনও অনেকে খেলা দেখতে এসেছিল। মাঠ এসে নিজের রাজাকে সমর্থন করেছিল।”
রিঙ্কু নিজের শুরুর দিনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, “ওই পাঁচ ছক্কার পর থেকেই আমার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।” ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের গুরুত্ব নিয়েও তিনি বলেন, “এসব টুর্নামেন্ট থেকে অনেক ক্রিকেটার উঠে আসে। কারণ এখানে ভালো খেললে সুযোগ পাওয়া যায় আইপিএলের মতো বড় প্রতিযোগিতায় যাওয়ার।” পাশাপাশি ইডেন গার্ডেন্সের দর্শকদের সমর্থন যে তিনি উপভোগ করেন, তাও জানান।











